সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদে শাস্তির দাবি তাহিরপুরে মানববন্ধন মধ্যনগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইনামুল গণি তালুকদার রুবেল সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও মোত্তালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন দিরাইয়ে মাদকবিরোধী সভার পর প্রবাসী লিমনের ওপর হামলার অভিযোগ ‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিম নতুনপাড়ায় ৮৮ প্রবীণকে সম্মাননা দিরাইয়ে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আহত ২ সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সুনামগঞ্জে দুই যুব সংগঠন পেল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অনুদান দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মাঠে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুনামগঞ্জে এসআরবি উইং কমান্ডার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত ছেলের হাতে মা খুন

ব্রি’র ‘রাইস মিউজিয়াম’ ঘিরে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন, এক জমিতেই ৫১ জাতের ধান

  • আপলোড সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৫:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৫:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
ব্রি’র ‘রাইস মিউজিয়াম’ ঘিরে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন, এক জমিতেই ৫১ জাতের ধান
হোসাইন আহমদ ::
ধান বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণ। এই প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন জাত উদ্ভাবন এবং কৃষকদের কাছে উন্নত প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে- একটি জমিতেই ৫১ জাতের ধান চাষ করে তৈরি করা হয়েছে ‘রাইস মিউজিয়াম’। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরপারের উজানীগাঁও গ্রামের কাছে ব্রি’র সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। মাত্র ৮ শতক জমিতে পাশাপাশি ৫১টি জাতের ধানের চারা রোপণ করে তৈরি করা এই ‘রাইস মিউজিয়াম’ ইতোমধ্যেই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এই রাইস মিউজিয়াম দেখতে আসছেন। অনেকেই প্রথমবারের মতো এতগুলো জাতের ধান একসঙ্গে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিটি ধানের পাশে নামসহ স্টিকার লাগানো থাকায় কৃষকদের জন্য জাতগুলো চেনা সহজ হচ্ছে। উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ও রাজু মিয়া বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকে আমরা কয়েকটি জাতের ধানই চাষ করে আসছি। কিন্তু এখানে এসে একসঙ্গে ৫১টি জাতের ধান দেখলাম। এখন আমরা বুঝতে পারব কোন জাত বেশি ফলন দেয়, কোনটি রোগবালাই কম সহ্য করে। আগামী মৌসুমে ভালো জাতগুলো চাষ করব। একইভাবে সুলতানপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মতিন জানান, একটি জমিতে এত জাতের ধান লাগানো হয়েছে শুনে দেখতে এসেছিলাম। এখানে চিকন, মোটা, সুগন্ধি ও উন্নত জাতের ধান রয়েছে। পরে আবার এসে দেখব কোন ধান আগে পাকে এবং ফলন কেমন হয়। এই মিউজিয়ামে ব্রি’র উদ্ভাবিত ও জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাসমতী টাইপের ব্রি ধান-১০৪, জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, জিরা টাইপের ব্রি ধান-১০৮, স্বল্প জীবনকালীন ব্রি ধান-৮৮সহ উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণস¤পন্ন নানা জাত। ব্রি’র সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, কৃষকরা সাধারণত ৫ থেকে ৭টি জাতের ধান চাষ করেন। কিন্তু ব্রি’র উদ্ভাবিত আরও অনেক উন্নত জাত রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা কম। এই রাইস মিউজিয়ামের মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য স¤পর্কে জানতে পারবেন এবং উপযোগী জাত বেছে নিতে পারবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। প্রতিবছর এসব হাওর থেকে প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। জেলার প্রায় ১০ লাখ কৃষক এই ধান চাষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এই রাইস মিউজিয়ামের মাধ্যমে কৃষকরা জানতে পারবেন কোন জাতের ধান হাওরের পরিবেশে ভালো হয়, কোনটি বেশি ফলন দেয় এবং কোনটি রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। এতে কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের হাতে নতুন জাতের ধান পৌঁছে দিতে প্রদর্শনী প্লট বা ‘রাইস মিউজিয়াম’ অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। এতে কৃষকরা সরাসরি দেখে, বুঝে এবং তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটি কৃষি গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ের চাষাবাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরি করে। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল বরাবরই দেশের বোরো ধানের অন্যতম ভা-ার হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন, আগাম বন্যা ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত ও সহনশীল জাতের ধান নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ব্রি’র এই ‘রাইস মিউজিয়াম’ উদ্যোগ কৃষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আগ্রহ, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন স্বপ্ন। কৃষি গবেষণার এই বাস্তবমুখী প্রয়াস ভবিষ্যতে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান